‘মেসোপটেমিয়ার চাঁদ’ (Mesopotamiar Chand) উপন্যাসটি ছন্দা বিশ্বাস রচিত একটি ঐতিহাসিক কাহিনি। এই উপন্যাসে উঠে এসেছে আক্কাদীয় সম্রাট সার্গন দ্য গ্রেটের কন্যা এনহেদুয়ানার অসাধারণ জীবনগাথা। বিশ্বের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত এনহেদুয়ানা শুধু কবি বা বিদূষীই নন, তিনি ছিলেন প্রখর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অধিকারী এক মহীয়সী নারী। তাঁর জীবনের প্রেম, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও সংগ্রামের কাহিনি এই উপন্যাসে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে।
‘মেসোপটেমিয়ার চাঁদ’ (Mesopotamiar Chand) ছন্দা বিশ্বাসের একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক উপন্যাস যেখানে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতির এক বিস্ময়কর অধ্যায় উঠে এসেছে। আক্কাদীয় সম্রাট সার্গন দ্য গ্রেটের কন্যা এনহেদুয়ানা ইতিহাসে পরিচিত বিশ্বের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে। কিউনিফর্ম লিপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে তাঁর অসংখ্য কবিতা। তিনি ছিলেন সুমেরীয় দেবী ইনান্নার মন্দিরের মহাযাজিকা এবং সেই সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন রাজা বা সম্রাট। সম্রাট সার্গন অত্যন্ত কৌশলে তাঁর কন্যাকে মহাযাজিকা পদে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার ফলে সমগ্র মেসোপটেমিয়াকে একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছিল। প্রজ্ঞা, যুদ্ধ এবং প্রেমের দেবী ইনান্নার উপাসনার মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল এক বৃহৎ প্যান্থিয়ন। এই উপন্যাসে এনহেদুয়ানার জীবনের নানা দিক অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে—তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রেম, আনন্দের মুহূর্ত এবং একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ক্ষমতার লড়াই। বৈমাত্রেয় ভাই এবং এক সেনাপতির ষড়যন্ত্রে তাঁর জীবন কীভাবে কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, সেই কাহিনিও এখানে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রাচীন সুমেরীয় ও আক্কাদীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে ওঠা মেসোপটেমিয়ার সমাজ, সাহিত্য, ধর্ম ও দর্শনের বিকাশেও এনহেদুয়ানার ভূমিকা ছিল অসামান্য। নারীদের কল্যাণে তিনি বহু জনহিতকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রেম এবং মানবিক আবেগে ভরপুর এই উপন্যাস পাঠককে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার এক রহস্যময় জগতে নিয়ে যাবে।
Reviews
There are no reviews yet.